শিক্ষা-স্বাস্থ্যে জিডিপির বড় অংশ: প্রতিশ্রুতি নাকি বাস্তব?
জিডিপির বড় অংশ শুধু শিক্ষা নয়, স্বাস্থ্যখাতেও ব্যয় করা হবে—এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হলো স্বনির্ভর বাংলাদেশের foundation । এই খাতগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হলে দেশের মানুষ আস্থা পাবে আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লেখাপড়া আর ভালো চিকিৎসা পাবে। তাঁর মতে, শুধু ইট-পাথরের hospital নয়, ডাক্তার আর ওষুধ চাই। তিনি স্বীকার করেন, এখনও অনেক হাসপাতালে এগুলো নেই।
শিক্ষাখাতে তিনি primary স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন। তার যুক্তি স্পষ্ট: ভালো বেতনে শিক্ষকরা চাকরি ছাড়বেন না, আর শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের মনোযোগ বাড়বে। মোট বাজেটের ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন তিনি। এটি এখনকার চেয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তিনি ব্রিটেনে থাকার সময় সেখানকার স্কুলগুলো দেখেছেন এবং মনে মনে কামনা করেছেন বাংলাদেশের স্কুলগুলো যদি সেমন হতো। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি কৃষি খাতেও একটি বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে farmer কার্ড চালু করা হয়েছে। তিনি জানান, যারা ধান ফলায়, মাছ চাষ করে বা গবাদি পশু পালন করে, তারা সবাই কৃষক। এই কার্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থিক সহায়তা আর প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং জাতির জন্য করা প্রতিশ্রুতি।
এই ঘোষণাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছানোর পেছনে একটি স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি আছে—স্বনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটাই গন্তব্য। এর জন্য শুধু নীতি নয়, বাস্তব বাজেট বরাদ্দ দরকার। তিনি রাজনৈতিক বাধা সত্ত্বেও ব্রিটেনে থাকা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা তাঁকে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সংবেদনশীল করে তুলেছে। এখন সেই সংবেদনশীলতা নীতি হিসেবে রূপ নিচ্ছে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, একটি সামাজিক অঙ্গীকার।
কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত হবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনের দ্রুততা আর সততার উপর। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, তাঁরা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন। কৃষক কার্ড ইতিমধ্যে দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা লাগবে। কারণ, কেবল টাকা দিলেই হবে না—প্রয়োজন পরিকল্পনা, মানবসম্পদ আর দৃঢ় নজরদারি। ঘোষণার ভাষা আশার, কিন্তু বাস্তবে রূপায়ণের পথ জটিল। এখন দেখার, কতটা আন্তরিকতা আছে এই পদক্ষেপে।
শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ালে অবশ্যই শিক্ষার মান বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে কতটা বাস্তবায়ন হবে, সেটাই প্রশ্ন।
আমি একজন কৃষক। কার্ড পেয়েছি। প্রথমবার কাউকে বলে আমাকে কৃষক বলে সম্মান দেখানো হলো। ধন্যবাদ।
হাসপাতালে ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই—এই সত্য স্বীকার করাটাই বড় কথা। এখন দেখি কতটা improvement উন্নতি হয়।
৫% বাজেট ভালো কথা, কিন্তু এটা কি নতুন? আগেও বলা হয়েছিল। এবার কি আসলেই টাকা খাতে যাবে? স্বচ্ছতা চাই।
ব্রিটেনের স্কুলের কথা মনে করে তিনি যে আবেগ প্রকাশ করেছেন, তা অনুপ্রেরণামূলক।
ভাগ্য পরিবর্তন শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু ভাগ্য বদলায় না—system ব্যবস্থা বদলায়। সেটা কি হবে?
জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা-স্বাস্থ্যে দিলে দেশ এগিয়ে যাবে। এটা ঠিক পথ।
ওষুধ আর ডাক্তারের অভাব নিয়ে কথা বলা হয়েছে—এটা অনেকদিনের কথা। আশা করি এবার কিছু হবে।