৯ দিন শুকনো বাংলা: ভোটের আগে মদ বন্ধ, কিন্তু অর্থনীতির পক্ষে কি ঝুঁকি?
মদ ছাড়া এপ্রিল মাস? পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এমনটা হয়নি। এবারের বিধানসভা ভোটের আগে ঘোষিত dry নির্দেশ শুধু মদের দোকানই বন্ধ করেনি, বার, পাব, ক্লাব থেকে শুরু করে চার ও পাঁচতারা হোটেলের সার্ভিসও থমকে দিয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত প্রায় নয় দিন ধরে রাজ্যজুড়ে চলছে এই মদ-বন্ধ। সাধারণ বন্ধের চেয়ে বেশি সময়, বেশি ক্ষেত্র। নির্বাচন কমিশন চায় নিরপেক্ষ ভোট, কিন্তু রাজ্যের অর্থনীতি ভোটের আগেই কাঁপছে। এই economy এখন মদের বন্ধের চাপে দোদুল্যমান।
আসলে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মাত্র ৪৮ ঘণ্টা ban চাপায়, কিন্তু রাজ্য আবগারি দপ্তর তার চেয়ে বেশি করেছে। তারা ঘোষণা করেছে ৯৬ ঘণ্টার, অর্থাৎ চার দিনের dry উইন্ডো। কলকাতা, হাওড়া, ২৪ পরগনায় ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মদ বিক্রি বন্ধ, মাঝে শুধু ২৪ এপ্রিল একদিন খোলা। এই প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা এবং গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে-কে ড্রাই ডে ঘোষণা করায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এই নির্দেশের পেছনে রয়েছে ভোটারদের influence করার অভিযোগ আর গত বছরের তুলনায় অস্বাভাবিক মদ তোলার তথ্য। রাজ্যের আবগারি দফতর চায় না কারও কাছে মদের মজুদ জমা হোক।
এপ্রিল মাস সাধারণ মাস নয়। গ্রীষ্ম, বিয়ের মরসুম, আর ভোটের আগের তোড়জোড়—এ সময় মদের দৈনিক বিক্রি সাধারণের চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ বেশি। সেই হিসেবে দৈনিক আয় হত ৭০-৭৫ কোটি টাকা। এখন তা হারিয়ে যাচ্ছে। রাজস্ব শুধু হারায় না, postpone যায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, বার-রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রে সেই সুবিধা নেই। একটি শুক্রবারের সন্ধ্যা ফিরে পাওয়া যায় না। চৌরঙ্গির 'রিউমার্স' বারের মালিক রাজদীপ চক্রবর্তী বলেছেন, 'এত দীর্ঘ period আমরা আগে দেখিনি।' পার্ক স্ট্রিটের মতো এলাকায় সন্ধ্যা আর সপ্তাহান্ত মদ বিক্রির বড় অংশ বহন করে, তাই টানা বন্ধের চোট সেখানে বেশি।
প্রতি দিন ৮০-৯০ কোটি টাকার বিক্রি হত। এই বন্ধের ফলে মোট ক্ষতি হতে পারে ১,৪০০ কোটি টাকা—শুধু কলকাতাতেই ৯০০ কোটি। আর এই ক্ষতি শুধু সরকারি রাজস্ব নয়, প্রায় ৪-৫ লক্ষ কর্মীর আয়ও ঝুঁকির মুখে। স্টার হোটেলের বিবাহ অনুষ্ঠান, ব্যাঙ্কোয়েট, কনসার্ট—সব বাতিল। আগে থেকে বুকিং করা ইভেন্টগুলোতে আয়োজকরা হিমশিম খাচ্ছেন। উত্তরবঙ্গে পর্যটন মরসুম, কিন্তু মদের বন্ধে হোটেল-রেস্তোরাঁর business থমকে গেছে। অন্যদিকে, অবৈধ মদের market ফুটতে পারে—এমন ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। এই হুমকি ঠেকাতে লাইসেন্সবিহীন মজুদেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
২০২৩-২৪ সালে রাজ্যে মদের মোট বিক্রি ছিল ২৩,০০০ কোটি টাকা, রাজস্ব এসেছিল ১৭,০০০ কোটি। এই বন্ধের প্রভাব সামগ্রিকভাবে এক হাজার কোটি টাকা ছুঁতে পারে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য স্বাভাবিক, কিন্তু শিল্পমহলের প্রশ্ন: গণতন্ত্রের price কি সবসময় এই খাতকেই দিতে হবে? রাজস্ব ক্ষতির হিসেব এখনও প্রাথমিক, চূড়ান্ত অংক ভোটের পর আবগারি রিপোর্টে জানা যাবে। তবু, ভোটের ছায়ায় অর্থনীতির এই সংকট এখনই অস্পষ্ট নয়। এটা বাস্তব, ভয়ংকর, আর গভীর।
রাজস্ব পিছিয়ে যাবে? হয়তো। কিন্তু আমাদের কর্মীদের বেতন কোথা থেকে আসবে আজ?
৯ দিন ধরে পার্ক স্ট্রিট শুকনো? রাতের আকাশটাই অন্ধকার হয়ে যাবে।
নিরপেক্ষ ভোটের জন্য ban ব্যান জরুরি, কিন্তু ক্ষতির ভার কি এক পক্ষের উপর চাপানো ঠিক?
দার্জিলিং-শিলিগুড়ি অঞ্চলে বার্ষিক মদ বিক্রি ৭২৫ কোটি। tourism পর্যটন মরসুমে এই বন্ধ কতটা আঘাত করবে তা সরকার বুঝেছে?
১,৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি? এটা শুধু মদের হিসেব নয়, পার্শ্ববর্তী industry শিল্প মারাত্মক ক্ষতি পাচ্ছে।
গণতন্ত্রের জন্য কিছু ত্যাগ চাই, কিন্তু সেই ত্যাগ কি সবসময় একই মানুষের হাতে হবে?
ভোটের আগে মদ দিয়ে ভোটারকে প্রভাবিত করা হচ্ছিল—এই influence প্রভাব ঠেকাতে এটা জরুরি।
স্টার হোটেলে বিয়ে বাতিল? গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিলাম, কিন্তু loss ক্ষতি আমি কোথায় পাব?