১৯৭২-এর ছায়ায় ফিরছে পুরনো রাজনীতি?
politics কখনো শুধু ক্ষমতার খেলা নয়, কখনো বা সেটা হয়ে দাঁড়ায়। নাহিদ ইসলামের বক্তব্য যেন সেই দাগ টেনে দিল—সংবিধানের নামে কি আবার পুরনো ideology ফিরছে? তিনি অভিযোগ করেছেন, ১৯৭২-এর সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার নামে আওয়ামী লীগের political আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খোলা হচ্ছে। কেবল তাই নয়, এ প্রক্রিয়ায় বিএনপি অচেতনভাবে ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি মনে করেন। এটা কি গণতন্ত্রের নামে অগণতান্ত্রিক কৌশল? নাকি ইতিহাসের চাকাকে বারবার ঘোরানোর এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত?
সংস্কারের দাবি তোলা হচ্ছে, কিন্তু সংসদে সেই আলোচনা উপেক্ষা করা হয়েছে—এমনটাই দাবি করেন নাহিদ। তার ভাষায়, সরকার নিজের agenda মতো সংসদ চালাচ্ছে, আর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের বদলে নিজের পছন্দের নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে। তাই তিনি বলেন, একটি সাংবিধানিক পরিষদ জরুরি—যেখানে শুধু সংশোধন নয়, গভীর পরিবর্তনের ভিত্তি গড়া হবে। কেবল কাগজে-কলমে নয়, sustainable পরিবর্তন চান তিনি।
নাহিদের প্রস্তাবগুলো কম নয়। তিনি দাবি করেন দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ—অর্থাৎ একটি upper চাই, যেখানে বিভিন্ন অঞ্চল ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব থাকবে। সংবিধান পরিবর্তন হোক গণভোটের মাধ্যমে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কমুক দলীয় প্রভাব, এবং নিয়োগে থাকুক বহুদলীয় অংশগ্রহণ। তত্ত্বাবধায়ক government পুনরায় হোক সর্বদলীয় ঐকমত্যে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। কিন্তু সবই একসাথে কি সম্ভব? নাহিদ বলেন, এগুলো পর্যাপ্ত নয়—প্রয়োজন ধাপে ধাপে সংস্কারের পরিকল্পনা।
এই কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের নেতারা—জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি—যারা সংস্কারের পক্ষে কথা বললেও গণভোটের বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণ সন্তুষ্ট নন বলে সতর্ক করেছেন নাহিদ। তার মতে, যারা সংস্কারের পক্ষে vote দিয়েছেন, তারা এখন কাজে কথার প্রতিফলন দেখতে চান। এটা না হলে জনসমর্থন ক্ষয় হবে, আর মানুষ আবার movement -এর পথে হাঁটবে। গণতন্ত্র কি শুধু ভোট নয়, তবে সেই ভোটের প্রতিশ্রুতি পূরণের ব্যবস্থা? নাহিদের প্রশ্ন ঝাঁঝালো।
দীর্ঘদিন ধরে দেশে democratic কাঠামো গড়ার লড়াই চলছে। কিন্তু বারবার বাধা আসে, সংকট ঘটে। নাহিদ ইসলাম বলেন, এই লক্ষ্য বারবার ব্যাহত হচ্ছে। তাই তিনি আরও জোর দেন একটি পারদর্শী ও সহমতিমূলক reform প্রক্রিয়ার ওপর। কারণ, কেবল অতীতের নাম নেওয়া যায় না—ভবিষ্যত গড়তে হবে নতুন ভাবনা আর নতুন কাঠামো দিয়ে। প্রশ্ন হলো, কে সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব নেবে? আর কতদিন ইতিহাসের ছায়ায় লুকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ?
সংবিধানের ধারাবাহিকতা নিয়ে কথা বললেও আসলে কি শুধু power ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার কথা ভাবা হচ্ছে?
গণভোটের প্রতিফলন না দেখলে মানুষ আবার আন্দোলনে যাবে—এটা কি হুমকি নাকি বাস্তবতা?
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ হলে কি সত্যিই আঞ্চলিক ক্ষেত্রগুলোর কথা শোনা হবে? নাকি আরেকটা ব্যুরোক্রেসি যোগ হবে?
সরকার নিজের এজেন্ডা চাপিয়ে দিচ্ছে—কিন্তু জনগণের এজেন্ডা কি? তা কি কেউ জানে? public জনসমর্থন হারানোর আগে শোনা উচিত।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দাবি করা হচ্ছে—কিন্তু সেটা কি শুধু ঘোষণাতেই থেকে যাবে?
নাহিদ ইসলাম ঠিকই বলেছেন—গণতন্ত্র কেবল ভোট নয়, তার পরের প্রতিশ্রুতিও রাখতে হয়।
ইতিহাসের নামে পুরনো আদর্শ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা—কিন্তু সেই ইতিহাস কি সবার জন্য একই? history ইতিহাস বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে।